![]() |
| —ছবি সংগৃহীত |
আইএমএফ-এর হিসাব আন্তর্জাতিক গোচরে আসিবার সঙ্গে সঙ্গে সক্রিয় ও উদ্বিগ্ন বিজেপি আইটি সেল বুঝাইতে শুরু করিয়াছে, কেন বাংলাদেশ ও ভারতের এই তুলনা আসলে বাস্তবের যথার্থ প্রতিফলন নহে। আইটি সেল-এর যুক্তিতর্কের ধরনধারণের সহিত পরিচিতরাই বুঝিবেন, কী ধরনের মারপ্যাঁচ এই বক্তব্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যবহৃত হইয়াছে। বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্প সেক্টরই তাহাকে কোভিড-সঙ্কটে বাঁচাইয়াছে, এমন যুক্তিও সেই মারপ্যাঁচে স্থান লইয়াছে— যদিও বোঝা দুষ্কর, ভারতকে সেই শিল্পে বা সমস্তরের কোনও শিল্পে মনোনিবেশ করিতে কে কবে বাধা দিতেছিল। আরও একটি কথা। উন্নয়ন বুঝিবার জন্য যে জিডিপি-ই একমাত্র হিসাবের খাতা নহে, মানুষের মৌলিক চাহিদা ও জীবনমানের পরিস্থিতিও যে তাহার বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সূচক, এমন কথা অমর্ত্য সেন প্রমুখ অর্থনীতিবিদ বারংবার বলিয়াছেন। দেখাইয়াছেন, কী ভাবে যে ভারত এক কালে মানব-উন্নয়ন সূচকে উপমহাদেশীয় তালিকার একেবারে উপরের দিকে ছিল, সে ক্রমে তালিকার নিম্নবর্গে স্থান লইয়াছে। ২০২০ সালের শেষে, নাগরিকের গড় আয়ু ভারতের অপেক্ষা বাংলাদেশে তিন বৎসর বেশি, শিশুমৃত্যুর হার ভারতের অপেক্ষা কম (হাজারে ভারত ২৮, বাংলাদেশে ২৫), সাক্ষরতায় দুই দেশ পাশাপাশি, শহর-জনসংখ্যার হারে বাংলাদেশ (৩৭ শতাংশ) ও ভারত (৩৪ শতাংশ) এবং— নারী কর্মসক্ষমতার দিক দিয়া বাংলাদেশ প্রভূত আগাইয়া (ভারত ২০ শতাংশ, বাংলাদেশ ৩৬ শতাংশ)। কে কোন দিকে অনুপ্রবেশ করিবে, তাহাই এখন প্রশ্ন। এই সমগ্র চিত্রের সমস্ত ‘দায়িত্ব’ যে দিল্লির বর্তমান শাসক দলকেই লইতে হইবে, এমন নহে, যদিও গত কয়েক বৎসরে পরিস্থিতি উপর্যুপরি খারাপ হইয়াছে। কিন্তু বর্তমান শাসকের ‘ঠাকুরঘরে কে’ ভাবটিই সাক্ষাৎ প্রমাণ, তাহারা নিজেরাই নিজেদের ‘অপরাধ’-এর ভাগিদার ভাবে। অথচ বাংলাদেশের সমৃদ্ধির মতো ঘটনাকে আইটি সেল-এর অপপ্রচারের হাতে ছাড়িয়া না দিয়া দিল্লির উচিত ছিল, অর্থনীতিবিদ ও সমাজতাত্ত্বিকদের সাহায্য লইয়া সেই দেশ হইতে কিছু শিক্ষা গ্রহণ করিবার।
Date published: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০৫:১৭
Author: আনন্দবাজার পত্রিকা
Entry Type: অপিনিয়ন পিস
Source: https://www.anandabazar.com/editorial/our-opinion/our-opinion-foreign-currency-rate-of-dhaka-is-three-times-more-than-that-of-islamabad/cid/1265430?fbclid=IwAR3IGsO8_wwkiEgEHsPrw-K3sM7gi5hK7H4F4m27pQdMHQ8ylPQQc-UC1Do